প্রিয় টাইটানিক


আমার ছোট বেলার টাইটানিক মুভির গল্প

.

প্রিয় টাইটানিক,
যখন ক্লাস ওয়ানে পড়ি তখন সাতবছরের বড় এক কাজিনের ডিভিডি প্লেয়ারে তোমারে দেখি। সেদিন আমার কাজিন একটা মিথ্যা বলছিল। সেইটা হচ্ছে, তোমার টাইটানিকে নাকি একটা ভুতুড়ে সিন আছে, সেটা আমার দেখা যাবেনা। ভয়ে ভুতুড়ে সিন আর দেখলামনা, কাজিন একাই দেখল। বড় হবার পর জানলাম সেটা ভুতুড়ে সিন ছিলনা, ছিল অশ্লীল সিন। কাজিনরে দু'বার গালি দিলাম জানার পর! ওরে তোমার নাম জিগাইলাম, ও বলল তোমার নাম টাইটানিক। সেই থেইকা তুমি আমার কাছে টাইটানিক। পরবর্তীতে অসংখ্যবার টাইটানিক দেখার পরও সেই অশ্লীল সিন আর আমার দেখা হয়নি। স্কিপ করে গেসিলাম প্রত্যেকবার। কারন, তোমারে আমি পবিত্রতায় দেখতে চাইসিলাম, অশ্লীলতায় না। প্রথম দর্শনেই বাচ্চা বয়সে আমার বুকে একটা হুহু করা অনুভূতির সৃষ্টি হয় তোমার জন্য। আমি নিশ্চিত সেটা তোমার অসাধারণ হাসি বা কাউয়ার বাসা টাইপ ব্রাউন কালার চুলের জন্য না। মুভির শেষে যখন তুমি জ্যাকের(ডিক্যাপ্রিও) সাথে ঠান্ডায় কাপতেসিলা তখনই আমার কোমল হৃদয় তোমার প্রতি মায়া বর্ষণ করে। আশ্চর্য! মরে যাওয়া জ্যাকের জন্য আমার এতটুকুও মায়া হয়নি। এখন ভাবি, এটা আমার পুরুষত্বের শয়তানি! দুঃখগ্রস্থ মানুষের প্রতি অন্য মানুষের মায়া জন্মে, প্রেম না। তবে তখন আমি সেটাকে মায়া না, জীবনের প্রথম প্রেম হিসেবেই দেখেছিলাম।পরিণত বয়সে আজ প্রেম সম্পর্কে আমার ধারণা বড়ই নিচে। ভাবাতুর সম্পর্কগুলার মধ্যে আমি প্রেমের থেকে মায়াকেই বেশি প্রাধান্য দিয়ে থাকি। একজন মানুষ হাজার বার, লক্ষবার, অসংখ্যবার প্রেমে পড়তে পারে, কিন্তু মায়ায় পড়ে খুবই কম। তাই প্রেমের চেয়ে মায়ার দামই আমার কাছে বেশি। কয়েক বছর আগে আমিও একজনের মায়ায় পড়েছি। সেটা পরে কখনো দেখা হলে বলব তোমারে। 
যাইহোক, ক্লাস ফাইভে এসে জানলাম তুমি টাইটানিক না, তুমি রোজ। এবং সে বছরই আমার শৈশবের শিক্ষক মামাতো ভাইয়ের কাছে জানলাম-- না, তুমি রোজও না, তুমি ক্যাট উইন্সলেট। আগের ওই কাজিন সম্পর্কে আমার ধারণা হইল,"হালা নিজে জানেনা আবার আমারে শেখায়!"।
আমার মনে পড়ে, তোমার নামটা মুখ দিয়ে আসতেছিলনা। তাই অর্ধেক রাত জাইগা খাতায় লেইখা নামটা মুখস্থ করি। এখন খুব সহজেই আসে, আর ভুলিনি!
ইন্টারনেটের সহজলভ্যতায় তোমার দি রিডার, লিটল চিল্ড্রেন, রেভ্যুলেশনারি রোড, সেন্স এন্ড সেনসিভিলিটি ইত্যাদি মুভি দেখেছি। মাশাল্লা! গল্পের স্বার্থে আর ঈশ্বরের আশীর্বাদে মোটামুটি তোমার সবগুলা মুভিই যারপরনাই অশ্লীল। প্রিয়তমা, বিশ্বাস করো, সব অশ্লীল সিনই আমি স্কিপ করে গেছি। তোমার উদাম পিঠে দুষ্টু চোখে তাকাইনি কখনো। ছয়বার মনোনীত হইয়া অস্কার জিতছ একবার, কিন্তু আমার মনের অস্কার জিতেছ অসংখ্যবার। ঘন্টা খানেক আগে ঘুম থেকে উঠছি। ঘুমের মধ্যে নিজ ইচ্ছায় মানুষ সুচিন্তা, কুচিন্তা কোনটাই করতে পারেনা, কিন্তু ঘুম থেকে ওঠার পর শুধু সুচিন্তাই করতে পারে, কুচিন্তা না।আমার বলা প্রত্যেকটা কথাই সত্যি, আমার আবেগ সত্যি।
তুমি কখনোই জানবেনা কী বিশাল ভালোবাসার পাহাড় আমি গড়ে তুলেছি আমার বুকে তোমার জন্য।

ফ্রেন্ডলিস্টে কিছু মুরুব্বি আছে আমার।ওনাদের চোখে আমি এখনো বাচ্চা। অপ্রাসঙ্গিক কিছু লিখেছি বলে সবাই আমাকে দুষ্টু ভাবতে শুরু করবে। ওনাদের তুমি বলে দিও, আমি ভালো। আর এটাও বলে দিও, বাচ্চারা শুধু বই-খাতার কাগজ ছিড়ে খায়না, বাচ্চারা ভালোও বাসতে জানে। আর তাদের এই ভালোবাসাই পবিত্র।
যাইহোক, "শুভ জন্মদিন ক্যাট এলিজাবেথ উইন্সলেট"

আমৃত্যু ভালোবাসা জিইয়ে রেখো আমার বুকে।

গত দু'বছর আগে এই দিনে লিখেছিলাম শৈশবের ক্রাশ ক্যাটের জন্য।