প্রথম দেখানে ভাল বাসা দ্বিতীয় পর্ব


ভাল ভাল গল্প পেতে এড করে রাখুন। নিয়মিত গল্প দেয়া হবে এখন থেকে

.

নিলা:আমি আর কিছু না বলে চুপচাপ ঘুমিয়ে যাই।কারণ আমি জানি আপু আমার জন্য বেস্ট টাই বাছাই করবে। পরেরদিন সকালে,, বাসার মধ্যে মেহমান আসছে এক এক করে সবাই।সবাই খুব খুশি।এক জনে এক ধরনের কথা বলছে।আমার কাছে সব কিছু কেমন যেন খুব অদ্ভুত লাগছে। কোন কিছু বিশ্বাস করতে পারছি না। নার্গিস চৌধুরী:এখানে আস নাস্তা খেয়ে নে।আর তোর সাথে আমার কিছু কথা আছে। নিলা:তার আগে তুমি আমার কথা শুনে নেও।বিয়ের পর ছেলে আমাকে ভার্সিটি যেতে দিবে তো মা। নার্গিস চৌধুরী:তোর বাবা এই নিয়ে কথা বলেছে।আর ছেলে বলছে তুই যতদূর ইচ্ছে পড়াশোনা করতে পারবি তারা তোকে বাধা দিবে না।শুন মা ওখানে ভালো হয়ে থাকিস।কারো সাথে দুষ্টামি করিস না। নিলা:বেশি না একটু করব।ঠিক আছে এখন আমি যাই। নয়না:একটুও দুষ্টামি করবি না মনে থাকে যেন সবার সাথে ভালো ব্যবহার করবি।আর কালকে থেকে বিয়ের অনুষ্ঠান শুরু হবে।আজকে মেহেদির অনুষ্ঠান আছে।তুই চল আমার সাথে আমি তোকে তৈরি করে দিচ্ছি। নিলা:ঠিক আছে আমি কিন্তু শাড়ি পড়তে পারি না।আর তুমি তো জানো শাড়ি পড়লে আমার পায়ের সাথে পেঁচিয়ে পড়ে যাই। নয়না:ঠিক আছে আমি খুব সুন্দর করে পিনাপ করে দিব যেন পেরিয়ে না যায়।এখন চুপ করে দাঁড়িয়ে থাক আমি শাড়ি পরিয়ে দিচ্ছি।বলে ওকে শাড়ি পরিয়ে দেই। নিলা:আপু একটা কথা বলার ছিল বলব রাগ করবে না তো। নয়না: বল কি বলতে চাস রাগ করব না। নিলা:আপু শাড়িটা তো খুব সুন্দর কিন্তু এটা তো আমরা কিনি নাই।তাহলে এটা কি তোমার শাড়ি। নয়না: দূর পাগলি এটা তোর বর তোর জন্য পছন্দ করে কিনে পাঠিয়েছে।আর শুধু এই শাড়ি না।গায়ে হলুদের কাপড় ফুলের গহনা,বিয়ের ড্রেস গহনা সব নিজে পছন্দ করে কিনে পাঠিয়েছে।এখন এই গহনা পড়ে তৈরি হয়ে নিচে চলে আসো।বলে ওখান থেকে চলে আসি। নিলা:শাড়ি টা খুব সুন্দর।আর গহনা গুলো মেচিং করে কিনা।মিস্টার বরের পছন্দ আছে বুঝতে হবে।না জানি খবিসটা দেখতে কেমন।যাই হোক নিচে যাই।না হলে আপু ডাকা ডাকি শুরু করে দিবে। নিশান:আমার ছোট বাবুটা তৈরি হয়ে গেছে।এখন যে তোকে নিচে যেতে হবে চল আমার সাথে। নিলা:তুমি ভাইয়া আমার সাথে কথা বলবে না।তুমি চাইলে আমার বিয়ে বন্ধ করে দিতে পারতে।কিন্তু তুমি সেটা কর নাই।সবাই খুব খারাপ হয়ে গেলে। নিশান:বাবুর বিয়ে না হলে আমি কি করে তোর ভাবিকে নিয়ে আসব বল।তোর ভাবিকেও তো এবার আনতে হবে তাই আর বাধা দেই নাই হাসতে হাসতে এখন নিচে চল।সবাই অপেক্ষা করছে। নিলা:এখন বুঝতে পারছি কেন তুমি ও কিছু বল নাই।তাহলে এই হলো তোমার মতলব।খুব খারাপ তুমি বলতে বলতে ভাই বোন নিচে চলে আসি। সবাই একসাথে এসে আমাকে মেহেদির স্টেজে নিয়ে যায় ওখানে গান বাজাতে বলে সবাই এক সাথে নাচবে। ভাইয়া বক্সে গান লাগিয়ে দেয়।প্রথমে আপু আর ভাইয়া নাচ শুরু করে দিল।কিছুক্ষণ পর ভাই আর ওর gf ওদের সাথে যোগ দেয়।আমি ওদের কান্ড দেখছি আর হাসছি।অন্য পাশে একজন মেয়ে আমাকে মেহেদী দিয়ে দিচ্ছে। একটু পরে ভাইয়া এসে বলে শালী সাহেবা আর কত সময় বসে থাকবে চল আমাদের সাথে একটু যোগ দিবে বলে উঠিয়ে নিয়ে যায়। নয়না:এই গান চেন্জ করে মেহেদির গান চালু কর দেও আর সবাই এখানে চলে আস। আপুর কথাতে গান চেন্জ করে দেওয়া হয়।আমি মাজে দাঁড়িয়ে আছি।আর সবাই ডান্স করছে। সবাই খুব খুশি হাসি দুষ্টামি আর আনন্দের মাঝে মেহেদির অনুষ্ঠান শেষ হতে হতে রাত হয়ে যায়। নিলা:আপু খুব টায়ার্ড আমি এখন রুমে যাই।আর আমি এখন আর কিছু খাব না। বলে রুমে চলে আসি।এসে কোন ভাবে শাড়ি খুলে ড্রেস পরে বিছানার মধ্যে গা এলিয়ে শুয়ে যাই।কখন চোখ লেগে আসে বুঝতে পারি নাই।হঠাত কারো খুব মিষ্টি ডাকে ঘুম ভেঙে গেল।চোখ খুলে তাকিয়ে দেখি মা খাবার হাতে বসে আছে। নার্গিস চৌধুরী:উঠ মা একটু খেয়ে নিবি নয়ত শরীর খারাপ হবে।তুই বস মা তোকে খাইয়ে দিব। নিলা:ঠিক আছে আমি কিন্তু চোখ খুলব না।তুমি আমাকে ঘুমানো অবস্থাতে খাইয়ে দিতে হবে।বলে উঠে বসি।কারণ খুব ভালো করে জানি মা আমাকে এখন এখান থেকে না খাইয়ে কোথাও যাবে না।আগেও মা সব সময়ই এই রকম করত আমার সাথে।খাবার খেতেই হতো। নার্গিস চৌধুরী:এখন তো মা খাইয়ে দিচ্ছি বিয়ের পর তোর কি হবে সেটা ভেবে আমার কিছু ভালো লাগছে না। মা কথা বলতে পারছে না চোখের পানি পরছে।এটা দেখে আমার ও খুব খারাপ লাগছে।মাকে জড়িয়ে ধরে কান্না শুরু করে দেই।মা ও আমার সাথে কান্না করছে।(আমি জানি না মার আদর কেমন হয় তাই এখানে গুছিয়ে লিখতে পারি নাই।তার জন্য ক্ষমা করে দিবেন) নয়না:মা কি হচ্ছে তুমি ও কান্না করছ দেখ তোমাকে দেখে ও কান্না করছে।এটা একদম ঠিক হচ্ছে না।তোমরা এমন করে কান্না করলে আমার কেমন লাগে বল সবাই চুপ কর। আপু আমাদের সাথে কথা বলতে বলতে আমদের জরিয়ে ধরে নিজে কান্না করা শুরু করে দিল।আসলে পরিবারের ভালোবাসা অন্য রকম।এখানে প্রচুর শাসন এর মধ্যে লুকিয়ে থাকে অনেক ভালোবাসা।যেটা হয়তো সব সময় প্রকাশ পায় না। নার্গিস চৌধুরী:অনেক হয়েছে এখন দুই বোন চোখের পানি মুছ বলে নিজের আঁচল দিয়ে চোখের পানি মুছে।দুইজনকে এক সাথে খাইয়ে দেই। নয়না:মা তুমি ঘুমিয়ে যাও ঘুমিয়ে পর।সকালে অনেক কাজ আছে।আর আমি আজকে বোনের সাথে ঘুমাব।বোন আমার কাছে থাকবে। নার্গিস চৌধুরী:ঠিক আছে দুইজনে কিন্তু রাত জাগবে না তারাতারি ঘুমিয়ে যাবে সকালে উঠতে হবে।বলে ওখান থেকে চলে আসি। চলবে,,,,,,,,,

86 Views