পদ্মায় পানি হ্রাস


পানি কমতে শুরু করায় কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে চরাঞ্চল ও বানভাসিদের মধ্যে।

.

রাজশাহীর কোল ঘেঁসে বয়ে চলা পদ্মার পানির ‍উচ্চতা কমতে শুরু করেছে। পানি কমতে শুরু করায় কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে চরাঞ্চল ও বানভাসিদের মধ্যে। 

রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) গেজ রিডার এনামুল হক বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, গত ৪ অক্টোবর থেকে পদ্মার পানির উচ্চতা কমতে শুরু করেছে। মঙ্গলবার (৮ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৬টায় পানির উচ্চতা ছিল ১৭ দশমিক ৭৯ সেন্টিমিটার। এর আগে সোমবার (৭ অক্টোবর) একই সময়ে পানির উচ্চতা ছিল ১৭ দশমিক ৯৯ সেন্টিমিটার। এবার এই নদীর পানির উচ্চতা সর্বোচ্চ রেকর্ড করা হয়েছিল ৩ অক্টোবর বিকাল ৩টায় ১৮ দশমিক ১৯ সেন্টিমিটার। যা পরদিন ৪ অক্টোবর সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ছিল। প্রতিদিন প্রায় ৯ থেকে ১০ সেন্টিমিটার করে পানির উচ্চতা কমছে।

স্থানীয় সূত্র মতে, রাজশাহী জেলার নয়টি উপজেলার মধ্যে গোদাগাড়ী, পবা, বাঘা ও চারঘাট উপজেলার কোল ঘেঁষে পদ্মা নদী প্রবাহিত। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যায় এবার এই উপজেলার চরাঞ্চলসহ নদী তীরবর্তী এলাকার প্রায় সাত হাজার পরিবারকে দুর্ভোগে পড়তে হয়েছে।

চকরাজাপুর বন্যাকবলিত এলাকার ইউপি সদস্য রেজাউল করিম জানান, বাঘা উপজেলার পদ্মার মধ্যে চকরাজাপুর ইউনিয়নের ১৫টি চরে তিন হাজার ৭৬২টি পরিবারে প্রায় ১৭ হাজার মানুষ গত তিন সপ্তাহ ধরে পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে। এর মধ্যে দুই হাজার পরিবারের বাড়িঘরে পানি ঢুকেছে। তবে এ সমস্ত ভুক্তভোগীদের মধ্যে সরকারিভাবে পর্যাপ্ত ত্রাণ সামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

চকরাজাপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আজিজুল আযম বলেন, পদ্মার পানি কমতে শুরু করেছে। ফলে চরের মানুষ ইতোমধ্যে নতুন ঘর তৈরি করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। নতুনভাবে ফসল ফলানোর স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে অনেকে। ধারণা করা হচ্ছে এ সপ্তাহের মধ্যেই পানি নেমে যাবে। ঘর নির্মাণ ও ফসল ফলাতে নতুন করে সরকারের সার্বিক সহযোগিতা প্রয়োজন বলে জানান তিনি। 

বাঘা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহিন রেজা জানান, উপজেলার সীমান্তবর্তী পদ্মার চরের চকরাজাপুর ইউনিয়নে বন্যায় ১৫টি গ্রামের প্রায় দুই হাজার মানুষ গত তিন সপ্তাহ ধরে পানিবন্দি অবস্থায় দিন পার করেছেন। এই মুহূর্তে কিছুটা পানি কমলেও মানুষের দুর্ভোগ কাটেনি। পানিবাহিত রোগসহ এলাকায় ব্যাপকভাবে বিষাক্ত সাপের উপদ্রব বেড়ে গেছে। ফলে সাপ আতঙ্কে অনেক পরিবার নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন। 

বাঘা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসের উপ সহকারী প্রকৌশলী হেকমত আলী বলেন, দুর্গত এলাকায় ত্রাণ বিতরণ করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে দুর্গত এলাকায় শুকনো খাবার হিসেবে চিড়া, বিস্কুট, সয়াবিন, চিনি, আটা, সেমাই, ওর স্যালাইনসহ ৫০ মেট্রিকটন চাল বিতরণ করা হয়েছে।

সুত্র: এখানে