উঠে দাঁড়ানোর গল্প


অতীতের কথা মনে পড়ে যায় তাই অন্যকে উঠে দাঁড়ানোর জন্য শ্লোগান দিচ্চি

.

আমি যখন খুব ছোট তখন আমাদের সংসার খুব ভালো চলত না।মা আর বাবা প্রতিদিন ঝগড়া করতে দেখতাম। কারন ৫ ভাই বোনের সংসার অভাব লেগ ই থাকতো। আমাকে যখন স্কুলে ভর্তি করিয়ে দিল।তখন আমার বয়স ৬ বছর।এমন স্কুলে ভর্তি হলাম যেখানে কোন টাকা লাগতো না। স্কুলে রং নাম হচ্ছে ব্যাক । গ্রাম গঞ্জে খরচ ছাড়া পড়াশোনার সহযোগিতা করে ব্যাক প্রতিষ্ঠান।যাই হোক ক্লাস ৫ পর্যন্ত পড়াশোনা শেষ করে ভর্তি হলাম হাইস্কুলে। তখন খরচের ব্যাপারটা সামনে এসে দাড়ালো। বাবা মা ঝগড়া আরো বেশি শুরু হয়ে গেল। আমি চিন্তা করতে লাগলাম যে আমি কাজ ও করব পড়াশোনা ও করব। গ্রাম গঞ্জে পেঁয়াজ লাগাতাম। দিন ১২ টাকা করে দিতে।এই ১২ টাকার মধ্যে ২ টাকা আমাকে দিতে না। কারন আমি ছোট ছিলাম।যাই হোক পড়াশোনা করতে করতে ৯ম শ্রেনী যে পা রাখলাম ।২০০৫ সাল তখন পড়াশোনা চাপ বাড়তে লাগলো।এক বছর যাওয়ার পড়ে ১০ম শ্রেনীতে উঠলাম।যখন আমার টেস্ট পরীক্ষা সামনে এলো ফর্ম ফিলাপ এর টাকা লাগবে।কি করি বুঝতে পারছি না। টাকা ছাড়া বলে কয়ে টেস্ট পরীক্ষা দিলাম। টেস্ট পরীক্ষার পড়ে টাকা দিতে হবেই। পরীক্ষা হয়ে গেল। একদিন রাত জেগে পড়াশোনা করছি। হঠাৎ বাবা আসল সুস্থ মানুষ।রাত তিনটার সময় বলল আমার ঘাড়ের রগের ভিতরে ব্যথা। ডাক্তার এর কাছে নিয়ে আসলাম। ডাক্তার বলল আমার দ্বারা সম্ভব না। পাবনা সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। জালালপুর নামে একটা বাজারে যাওয়ার সময় ভ্যান থামল।বাবা আমাকে বলল তোমার ছোট ভাইকে কুরআনের হাফেজ বানাইও। আমার ছোট ভাই আর আমি বাজারে থাকলাম রাত তিনটার সময়। বাজার থেকে বাড়ি অনেক দুর ছিল। বাড়িতে আসার সময় ভয় পাচ্ছিলাম।ও বাবা অসুস্থ অবস্থায় আমাকে ২০টাকা দিয়েছিল এত রাতে ভ্যানে উঠে চলে যাইও।আরো বলছিল তোমার মামাদের খবর দিও হাসপাতালে আসার জন্য।ওরা সবাই চলে গেল। আমরা দুজন একটা ভ্যানকে বললাম একটু সামনে নামিয়ে দিয়ে আসেন। আমাকে বলল ৫০ টাকা ভাড়া লাগবে। বললাম ২০ টাকা আছে।সে বলল পাগল চলে না।এটাও বললাম পড়ে দেখা হলে দিয়ে দেব সেটা সে শুনল না। যাইহোক কি করা।ফযরের আজান পড়ে আমরা আসলাম বাড়ীতে। মামাদের সবাইকে বললাম বাবা হাসপাতালে।১ঘন্টা পড়ে মামাতো ভাই এসে খবর দিল তোর বাবা মারা গেছে।আমার গল্পটা লিখতে সমস্যা হচ্ছে কান্না আসতেছে।কারন মামাতো ভাই খবরটা এমনভাবে দিয়েছিল বিশ্বাস হচ্ছিল না। বাবা মারা গেছে। যাইহোক পরীক্ষা দেব টাকা নাই।বাবা একটা ভ্যান রেখে গিয়েছিল সকালে স্কুলে যাইতাম বিকালে ভ্যান চালাতাম। পরীক্ষা দিলাম।৩.৬৯পেলাম এ-। আমাকে একটা স্যার ফ্রী পাইভেট পড়াত।নাম সাইদুল স্যার। এইভাবে ইন্টার পাশ করলাম। ছোট বোনের বিয়ে দিলাম। ছোট ভাইকে কুরআনের হাফেজ বানালাম। ছোট ভাই ফাইভে বৃত্তি পাইছে এইটেও বৃত্তি পাইছে। এইবার পাবনা জেলার মধ্যে ফাস্ট হয়েছে।আমি অনেক জায়গায় চান্স পাইলাম টাকার অভাবে পড়তে পারলাম না। ঢাকা চলে গেলাম। চাকরি করতে থাকলাম। বন্ধুরা খুব ছোট বেলা থেকে আমার একটা সখ ছিল কবুতর পালন করা। অনেকদিন ঢাকা থাকার পড়ে বাড়ি আসলাম। কিছু টাকা ছিল। কবুতর পালন শুরু করলাম। এদিকে ৩বোন বিয়ে দিলাম। জমি চাষ করতাম।এখন আমার খামার অনেক বড়। আমার প্রতি মাসে অনেক টাকা আসে। অতীতের কথা মনে পড়ে কান্না আসে। ব্যবসা ছাড়া কেউ ধনী হতে পাড়ে না।                            চলবে গল্পটা