#দানবের_পানপাত্র ?

Comments · 124 Views

#দানবের_পানপাত্র ?
ভিয়েতনাম যুদ্ধের কথা আমরা সবাই জানি । বছরের পর বছর উত্তর ভিয়েতনামের গেরিলা বাহিনী যুদ্ধ ক??

ভিয়েতনাম যুদ্ধের কথা আমরা সবাই জানি । বছরের পর বছর উত্তর ভিয়েতনামের গেরিলা বাহিনী যুদ্ধ করেছে পরাক্রমশালী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর সঙ্গে । উভয় পক্ষেরই প্রচুর ক্ষয়ক্ষতি ও জীবনহানির পর একদিন সে যুদ্ধ শেষ হল। এত বছর পর সে যুদ্ধের ক্ষত প্রায় মুছে গেছে... এক জায়গা ছাড়া । আশ্চর্যের বিষয় যে সেই দেশটা ভিয়েতনাম নয়, তার পাশের দেশ লাওস।
সেই সময়ে মার্কিন বিমান বাহিনী ভিয়েতনামি ছাড়াও লাওসের 'প্যাথেট লাও' গেরিলাদের নির্মূল করার জন্য ক্রমাগত বোমাবর্ষণ করে যাচ্ছে লাওসের সীমান্তবর্তী অঞ্চলে। এর মধ্যে শুধু Xiangkhoang প্রদেশে তারা ১৯৬৪ থেকে ১৯৭৩, এই নয় বছরে যত বোমা ফেলেছে, পুরো দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ইউরোপে তারা এত বেশী বোমা বর্ষণ করেনি। ২৬ কোটি ক্লাস্টার বোমা এবং অন্যান্য বিষ্ফোরক ফেলা হয়েছিল সেখানে। তার মধ্যে আনুমানিক আট কোটি বোমা ফাটে নি। এর ফলে এক বিস্তীর্ণ এলাকা মানুষের যাতায়াতের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক হয়ে আছে আজও । প্রতি বছর ঐ না-ফাটা বোমার বিষ্ফোরনে মারা যায় কিছু অসাবধানী গ্রাম্য মানুষ । ২০০৪ থেকে UNESCO এবং নিউজিল্যান্ডের NZAID হাত মিলিয়ে সেই সব বোমা সরানোর কাজ করছে, কিন্তু এখনও প্রচুর অনাবিষ্কৃত বোমা সেই অঞ্চলে আছে। এই কারণে ওই প্রদেশে সাধারণ পর্যটকের যাবার অনুমতি নেই। এর জন্য পৃথিবীর মানুষের চোখের আড়ালে থেকে গেছে এক অদ্ভুত রহস্য যার প্রাচীনত্ব অন্ততঃ ২৫০০ বছর।
এই Xiangkhoang প্রদেশে আছে এক আদিগন্ত সমভূমী , যাকে প্রত্নতাত্ত্বিকরা নাম দিয়েছেন 'কলসীর প্রান্তর' বা Plain of Jars . কারণ এই প্রান্তরের সর্বত্র, এবং আশেপাশের অনেক জায়গায় ছড়িয়ে আছে হাজার হাজার পাথরের কলসী বা ঘড়া, বিভিন্ন আকারের এবং বিভিন্ন ধরনের পাথরে তৈরি । উচ্চতা তিন ফুট থেকে দশ ফুট এই কলসীর সংখ্যা আরও অনেক বেশি ছিল অনুমান করা যায় । বোমাবর্ষণে ধ্বংস হয়ে যাবার পরেও এখনও খুঁজে পাওয়া গেছে বেশ কয়েক হাজার ঐ বিরাট আকৃতির কলসী, এখনও কাছের বনাঞ্চলে পাওয়া যাচ্ছে নতুন নতুন কলসী। এগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড়টির ওজন পন্ডিতরা অনুমান করেছেন ৩২ টন।
লাওসের ইতিহাসে এই অদ্ভুত পাথুরে কলসীগুলো সম্বন্ধে কোন উল্লেখ নেই। কেউ জানে না কারা এগুলো তৈরি করেছিল, কি উদ্দেশ্যেই বা তৈরি হয়েছিল । স্থানীয় লোককথাতে আবার সেই দৈত্যাকৃতি মানুষের গল্প এসেছে, সম্ভবত কলসীগুলোর আকার দেখে তাদের মনে হয়েছে সাধারণ মানুষের পক্ষে এগুলো তৈরি করা সম্ভব নয়।
লোককথা অনুযায়ী দৈত্যরাজ 'খুন চোয়াং ' এক পরাক্রান্ত শত্রুকে যুদ্ধে পরাজিত করে আনন্দ উৎসবের জন্য মদ চোলাই করার উদ্দেশ্যে বা মদ রাখার জন্য ওই কলসীগুলো তৈরি করান।
ইদানিং প্রত্নতাত্ত্বিকরা সেখানে যাতায়াত শুরু করেছেন, গবেষণাও শুরু হয়েছে । যদিও এগুলো প্রথম নজরে আসে এক ফরাসি প্রত্নতাত্ত্বিকের, ১৯৩০ সালে। কিন্তু তার পর কোন বিশেষ গবেষণা হয় নি। এখনও গবেষকরা কোন মতৈক্যে পৌঁছাতে পারেননি এই দৈত্যাকার কলসীগুলোর সম্বন্ধে । এক দলের মতে এই রাস্তায় যে সব বণিকদের দল যাতায়াত করত দূরদূরান্তের দেশ থেকে, তাদের জন্য বৃষ্টির জল সঞ্চয় করে রাখা হত। এই প্রথা অন্য বানিজ্যিক পথে প্রাচীনকালে দেখা যেত। সঞ্চিত জল গ্রীষ্মকালে কাজে লাগত।
আরেক দলের মত এগুলোর মধ্যে প্রাচীন মানুষ মৃতদেহ সমাধিস্থ করত। বড় আকারের ঘড়া বা কলসীর মধ্যে মৃতদেহ সমাধিস্থ করার প্রথা আদিকালে বিশ্বের অনেক দেশেই ছিল। কিন্তু সাধারণত বেশিরভাগ জায়গায় মৃতদেহ কলসীতে বসা অবস্থায় রেখে মাটির নিচে সমাধিস্থ করা হত মৃতের ব্যবহৃত জিনিসপত্র সমেত। এখানে কিন্তু কলসীগুলোর আশেপাশে কিছু সাধারণ সমাধিক্ষেত্র পাওয়া গেছে যাতে ২০০০ থেকে ২৫০০ বছরের পুরনো মানুষের অস্থি পাওয়া গেছে। আবার কয়েকটি কলসীর মধ্যেও অস্থি পাওয়া গেছে।
২০১৮ সালে অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির গবেষকরা খুঁজে পেয়েছেন আরও ১৩৭ টি কলসি। দেখা যাক দেশ বিদেশের গবেষকরা এই বিচিত্র কলসী প্রান্তরের রহস্য উদ্ঘাটন করতে পারেন কিনা।
শ্যামল ঘোষ
Comments